মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ইতিহাস

প্রাচীন ইতিহাস - ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ এক জনপদের নাম ঢাকাদক্ষিণ। সিলেটের তরল সোনায় মথিত গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঠিক মধ্যখানে কুশিয়ারা, কাকেশ্বরী আর কুড়া নদীর কোল ঘেষে গড়ে ওঠেছে সিলেটের প্রাচীন ব্যবসাকেন্দ্র ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন।

ধর্ম-রাজনীতি-মুক্তিযুদ্ধ প্রভৃতি কারণে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে ৩২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের নদী-পাহাড়-টিলা বেষ্টিত সমৃদ্ধ এই ইউনিয়নটি।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায় মুঘল আমলে বর্তমান গোলাপগঞ্জ উপজেলার আয়তনাধীন এলাকার রাজস্ব আদায়-উশুল তহবিলের ঘাটি ছিল বর্তমান ঢাকাদক্ষিণ। পরবর্তীতে ইংরেজ আমলে হেতিমগঞ্জ এলাকায় থানা সদর স্থাপিত হলে ঢাকাদক্ষিণ তার প্রশাসনিক গুরুত্ব হারায়। ঐতিহাসিক বাণীপ্রসন্ন মিশ্রের মতে, “ঢাকাদক্ষিণ যদিও শহর নয় তথাপি একে গ্রাম-সমষ্টিও বলা যাবেনা। দেশভাগের আগেই এখানে পোস্টঅফিস, ডাকবাংলো, ডিসপেনসারি, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস ছিল।”

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকাদক্ষিণ পাকিস্থানের অন্তর্ভুক্ত হয়, ১৯৬২ সালে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের মর্যাদা লাভ করে এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নয়মাস পাকবাহিনীর দ্বারা বেষ্টিত থাকার পর ১৯৭১ সালের ১১ই ডিসেম্বর ঢাকাদক্ষিণ পাকিস্তান মুক্ত হয়। সেইসাথে অন্তর্ভুক্ত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ হিসেবে।

২০১২ সালের ১১ই ডিসেম্বর ঢাকাদক্ষিণ সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ নামক সংগঠনের উদ্যোগে প্রথবারের মত পালিত হয় ঢাকাদক্ষিণ পাকিস্তান মুক্ত দিবস। এরপর থেকে বিভিন্ন দল-সংগঠন এই দিবসটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে।


Share with :
Facebook Twitter